Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

উত্তাল ইরান: আকাশপথে বড় হামলার ছক আমেরিকার? সেনাঘাঁটি নিশানা করার দাবি মার্কিন রিপোর্টে

 উত্তাল ইরান: আকাশপথে বড় হামলার ছক আমেরিকার? সেনাঘাঁটি নিশানা করার দাবি মার্কিন রিপোর্টে



ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভ ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে দাবি করেছে, ইরানে হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই প্রাথমিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা শুরু করেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর হোয়াইট হাউসে আলোচনা হয়েছে—যদি হঠাৎ করে সামরিক অভিযান চালাতে হয়, তবে কোন পথে হামলা চলবে এবং কোন কোন ঘাঁটিকে নিশানা করা হবে। সূত্রের দাবি, প্রাথমিকভাবে আকাশপথে বড় হামলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ইরানের সেনাঘাঁটিগুলিই হতে পারে মূল লক্ষ্য। যদিও মার্কিন প্রশাসনের একাংশ স্পষ্ট করেছে, এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অস্ত্রশস্ত্র প্রস্তুত বা হামলার নির্দেশও দেওয়া হয়নি—সবই সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য কৌশলগত আলোচনা মাত্র।
এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। গত দেড় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে। কিন্তু খুব দ্রুতই তা রূপ নেয় ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সার্বিক গণআন্দোলনে। রাজপথে নেমে খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলেছেন হাজার হাজার মানুষ।
বিক্ষোভ দমনে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরানের প্রশাসন। অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ মোভাহেদি আজ়াদ ঘোষণা করেছেন, বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লার শত্রু’ হিসেবে দেখা হবে—যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। প্রশাসনের গুলিতে ইতিমধ্যেই বহু প্রতিবাদীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, শুক্রবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬৫। তবে স্থানীয় সূত্রগুলির মতে, মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টানা দু’দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লেখেন, “ইরান স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে। আমেরিকা তাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।”
এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পকে ‘অহংকারী’ বলে আক্রমণ করেছেন খামেনেই। তাঁর দাবি, বিশ্বের সব অহংকারী শাসকের মতো ট্রাম্পের পতনও অবশ্যম্ভাবী। তবে প্রশাসনের কঠোরতা সত্ত্বেও এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি ইরানের বিক্ষোভ—আর সেই কারণেই মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ